Bong Info-বাংলা তথ্য ভান্ডার

India's Best Bengali Information Site : Study Notes, Current Affairs, General Knowledge for All Types of Exams

LightBlog

Breaking

Thursday, March 12, 2020

শিশুশ্রম ও শিশুশ্রমিক কী? ভারতে শিশুশ্রমের কারণ সমূহ

শিশুশ্রম ও শিশুশ্রমিক কী? ভারতে  শিশুশ্রমের কারণ সমূহ:

শিশুশ্রম ও শিশুশ্রমিক কী ? ভারতে শিশুশ্রমের কারণ সমূহ
শিশুশ্রম ও শিশুশ্রমিক
কারখানা আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু, যারা কৃষি, শিল্প, কারখানা, হোটেল বা রেস্তোরা, খনি তথা যেকোনো শ্রম  ক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কর্মসম্পাদনে যুক্ত, তারাই হল শিশুশ্রমিক । আর অর্থের বিনিময়ে তাদের দ্বারা প্রদানকৃত শ্রমই হল শিশুশ্রম, যা সম্পাদনে তাদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয় ।

দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক এবং সমাজতাত্ত্বিক অনুশীলন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ গুলোকে নিম্নরূপে উপস্থাপন করা যেতে পারে --

দারিদ্রতা

International Labour Organization (ILO)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে শিশু শ্রমিকের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো দারিদ্রতা এবং ইহা মূলত পারিবারিক দারিদ্রতা হিসাবে নির্দেশিত । পারিবারিক অভাব-অনটনের পাশাপাশি সদস্যদের সংখ্যাধিক্য এবং বেকারত্বমূলক পরিস্থিতি শিশুদের উপর চাপ বৃদ্ধি করছে ।

পারিবারিক বিপর্যয়

পরিবারের উপার্জনশীল সদস্যের শারীরিক দুর্বলতা, বিকারগ্রস্থতা, অকাল মৃত্যু এমনকি পারিবারিক বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতি গুলোতে পরিবারের সদস্যদেরকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য শিশুরা কোনো কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে বাধ্য হয় ।

অভিভাবকদের অজ্ঞতা 

বহু অশিক্ষিত এবং অজ্ঞ পিতা-মাতারা তাদের শিশুদেরকে উপার্জনের একক হিসাবে গণ্য করার ফলে শিশু শ্রমিক-এর সৃষ্টি ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

অর্থের প্রতি শিশুদের মোহগ্রস্ততা

বিশেষত নিম্নবর্গীয় শিশু, যাদের মধ্যে লেখাপড়ায় অমনোযোগিতার সাথে বিদ্রোহী মনোভাব অন্যদিকে যেকোনো পথে অর্থ উপার্জনের মোহগ্রস্ততা তাদেরকে শিশু শ্রমে নিযুক্ত হতে প্রভাবিত করে ।

শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা 

প্রথাগত শিক্ষা শিশুকে নিশ্চিতভাবে কর্মমুখী করে তুলতে পারছে না, আবার পাঠক্রম এবং পাঠদান পদ্ধতি-কোনোটিই তাদের কাছে আকর্ষণীয় না হয়ে ওঠার কারণে শিশু মূলত নিম্নবর্গীয় পরিবারের শিশুরা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়াকেই বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে।

নিয়োগ কর্তাদের স্বার্থান্বেষী মনোভাব 

লোভী এবং স্বার্থান্বেষী নিয়োগকর্তারা নিজেদের স্বার্থেই শিশুশ্রমকে মূলধন হিসাবে গণ্য করে শিশুদেরকে কর্মক্ষেত্রে যথেচ্ছভাবে নিয়োগ করছে। অবশ্য তাদের যুক্তি হলো দরিদ্র এবং গৃহপরিবারহীন শিশুরা কাজের সাথে যুক্ত থাকলে তারা অনাহার থেকে বাঁচবে এবং অপরাধমূলক ক্রিয়া কর্ম সম্পাদনের থেকে দূরে থাকবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা শিশুশ্রম সৃষ্টি এবং শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে ।

শিশুশ্রম নির্ভর শিল্প

কিছু কিছু শিল্প বড়দের তুলনায় শিশুদের শ্রমের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে এবং বিদেশে সেইসব শিল্পজাত দ্রব্যের ব্যাপক বাজার চাহিদা। এই সমস্ত শিল্পের মালিকরা অল্প মজুরীতে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করে থাকে। এই প্রসঙ্গে, উত্তরপ্রদেশের কার্পেট শিল্পের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা যেতে পারে।

সামাজিক দুর্বলতা 

সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, ভোগ্য সামগ্রীর প্রতি আকর্ষণ এবং অল্প বয়সে রোজগারের মনোবৃত্তি গড়ে তোলাই শিশুদেরকে শ্রমক্ষেত্রে নিযুক্ত হতে প্রভাবিত করে ।

রাজনৈতিক ত্রূটি-বিচ্যুতি

ভারতে গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের মতো মূল্যবোধ গুলির প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করা হলেও রাজনৈতিক স্বার্থে বৈষম্যভিত্তিক আর্থসামাজিক কাঠামো ধরে রেখে পরোক্ষভাবে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে।

সরকারি আইন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা 

একশ্রেণীর অভিভাবক শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক আইনসমূহের  বিরোধিতা করে শিশুদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য গ্রহণে প্রত্যাশী। অন্যদিকে শিশুশ্রম বিরোধী সরকারি প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির অভাব শিশুশ্রম প্রথা দমনের পরিবর্তে পরোক্ষভাবে টিকিয়ে রাখায় সাহায্য করছে।

           পরিশেষে বলা যায়, ভারতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ কারনিক উপাদানসমূহের প্রভাব থাকলেও আর্থনীতিক দুর্বলতাকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা যেতে পারে।

No comments:

Post a Comment